আমার দেখা স্বপ্না দি… (স্বপ্না ঘোষাল)
শ্রীমতী বিশ্বরূপা সেনগুপ্ত
আমি সদ্য রবীন্দ্রভারতী পাশ করে বেরিয়েছি, ওখানে অনেক গুণীজনের সান্নিধ্যে এসেছি। তারপর কিছুদিন চুপচাপ ছিলাম। তারপর হঠাৎ আমার এক বন্ধু এবং দিদি রত্না বল্লভ, গান করতেন খুব ভালো, গানের সূত্রেই আমার সাথে আলাপ। ওনার হাত ধরেই স্বপ্নাদির কাছে আমার যাওয়া। খুব সম্ভবত ১৯৮৩ সাল। আমার সৌভাগ্য, তখন থেকেই উনি আমায় সুনজরে দেখেছেন এবং স্নেহ করতেন এবং ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্ক মধুর হয়ে ওঠে। আসলে ওই মানুষটির মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ দেখতে পেয়েছিলাম। প্রত্যেক ছাত্রীকেই উনি কাছে টেনে নিতেন। স্নেহ ভালবাসা তাঁর মধ্যে ছিল পরিপূর্ণ, তেমনি শান্ত স্বভাব। এর সাথে তাঁর সঙ্গীতজীবন, তাঁর গানে আমরা মুগ্ধ। ক্লাসে গান শেখাতেন নিষ্ঠার সাথে এবং নিখুঁত ভাবে। তাঁর গায়কী, সুরেলা কণ্ঠস্বর, উচ্চারণ, ভাব মনের মধ্যে গেঁথে যেত। ক্রমশই ওনার কাছের হয়ে উঠি। সবসময় মনে হয় আমার পরিবারেরই একজন। আমরা কোথাও সঙ্গীত পরিবেশন করলে উনি খুব উৎসাহিত করতেন। আমার সৌভাগ্য, ওনার সাথে অনেক জায়গায় গেছি, তাতে দেখেছি প্রচুর মানুষ ওনার ভক্ত। অফুরন্ত ভালোবাসা পেয়েছেন বিশিষ্ট জনের। অনেক শিখেছি ওনার কাছে। কতটা গ্রহণ করেছি বলতে পারবনা, তবে ওনার অদেয় কিছু নেই। ৫০ বছরের ওপর সঙ্গীত জীবনে উনি শ্রোতা দর্শকদের অনেক আনন্দ দিয়েছেন গান পরিবেশন করে। আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছি ওনার সঙ্গে। এভাবেই যেন থাকতে পারি। ওনার দীর্ঘায়ু সুস্থ জীবন কামনা করি এবং সাঙ্গীতিক জীবন আরো সমৃদ্ধ হোক। প্রতিটি মানুষের কাছে এভাবেই ভালোবাসা শ্রদ্ধা পেয়ে যান এই কামনা করি।




Comments
Post a Comment