সুমিত্রা ঘোষ - গৌরবের অতীত


শ্রীমতী সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়

ষাটের দশকের মধুকণ্ঠী সুমিত্রা ঘোষ কে আজ কি কারও মনে পড়ে ?  অতুল কণ্ঠসম্পদের অধিকারী হয়েও চরম ভাগ্য বিপর্যয় ও প্রচার-বিমুখতা ধীরে ধীরে তাঁকে জনমানসে বিস্মৃতির দিকে ঠেলে দিয়েছে ; --- যা বাঙালী সঙ্গীত পিপাসু শ্রোতাদের কাছে নিতান্তই দুর্ভাগ্যের!

ভাবলে অবাক হতে হয় সেদিনের সেই গৌরবময় দিনগুলিতে আরতি মুখোপাধ্যায়, সুপ্রভা সরকার, প্রতিভা কাপুরের মত প্রথম সারির গায়িকাদের সঙ্গে সমান তালে যাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলত, সেই মানুষটির সাঙ্গীতিক প্রেক্ষাপট কতটা উজ্জ্বল ছিল। বিষ্ণুপুর ঘরানার গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সুমিত্রা ঘোষ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম পান। পরবর্তীতে প্রখ্যাত কীর্তনীয়া রথীন ঘোষের তত্বাবধানে পুরাতনী বাংলা গানে তিনি দক্ষতা অর্জন করেন। তারও পরে পূরবী দত্তের কাছে তাঁর নজরুল গীতি শিক্ষা। স্কটিশ চার্চের স্নাতক সুমিত্রা ঘোষ তত্কালীন রবীন্দ্রভারতী আকাদেমী থেকে সঙ্গীতে সিনিয়ার ডিপ্লোমা নিয়ে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তী সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে বাংলার বাইরেও নানা অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৬৫ সালে সুচিত্রা মিত্রর “রবিতীর্থ” থেকে প্রথম ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তখন থেকে সুচিত্রা মিত্রই তাঁর জীবনের ও সঙ্গীতের দীক্ষাগুরু হয়ে ওঠেন।



শ্রীমতী সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায়

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা


Comments

Popular Posts